
বিশেষ প্রতিবেদন:
ভারতের উত্তরপ্রদেশের অমরোহার হাসানপুর এলাকার ধৌরিয়া গ্রামে ঘটে গেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বেড়ে ওঠা তিন বোন—সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ—আলাদা না হওয়ার সিদ্ধান্তে একই যুবককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন। তাদের স্বামী বিকাশ পেশায় একজন ভিডিও চিত্রগ্রাহক এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন।
তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে একসাথে রিল ও ভিডিও তৈরি করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের পরিবার থেকে পৃথক স্থানে বিয়ের কথাবার্তা শুরু হলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
বড় বোন সরোজের মতে, আলাদা হয়ে যাওয়ার ভয়ে একপর্যায়ে তারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও ভেবেছিলেন। পরবর্তীতে তারা সিদ্ধান্ত নেন, জীবন দেওয়ার চেয়ে তিনজনে মিলে একজনকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া ভালো। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এবং নিজেদের স্বেচ্ছায় নেওয়া।
অন্যদিকে চিত্রগ্রাহক বিকাশ জানান, তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও মানসিক আবেগ বিবেচনা করেই তিনি এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।
স্থানীয় এক মন্দিরে ধর্মীয় রীতি মেনে সিঁদুরদান ও অগ্নিকে সাক্ষী রেখে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সমালোচনার জবাবে তিন বোন পৌরাণিক ইতিহাস টেনে বলেন, প্রাচীনকালে রাজা দশরথেরও একাধিক রানি ছিল, ফলে তাদের সিদ্ধান্তকে কেন অপরাধ বা অপমানজনক হিসেবে দেখা হবে?
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত ও সমালোচিত উভয়ই হলেও, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এতে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে
হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫: ভারতের আইন বিশেষজ্ঞ ও ইলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবীদের মতে, হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী জীবিত এক স্ত্রী থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বা একাধিক বিয়ে করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ফলে এই বিয়ের কোনো আইনগত ভিত্তি বা আনুষ্ঠানিক বৈধতা থাকবে না।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানায়, তারা চারজনের সঙ্গেই কথা বলেছে। প্রত্যেকেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা আপত্তি না আসায় এখনো পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
