স্টাফ রিপোর্টার:
নাটোরের বড়াইগ্রামে কৌশলে প্রতারণা করে পিতৃহীন এক কিশোরের ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুই যাত্রীবেশী প্রতারক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সম্বলটি হারিয়ে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বনপাড়া এলাকা থেকে অটোভ্যানটি চুরি হয়।

ভ্যান হারানো কিশোরের নাম শাহাদৎ। তার বাবা সবুজ হোসেন পাঁচ বছর আগে ঢাকায় পাইপমিস্ত্রির কাজ করার সময় একটি উঁচু ভবন থেকে পড়ে মারা যান। বাবা হারানোর পর থেকে শাহাদৎ তার বিধবা মা জোসনা খাতুন ও ভাইবোনদের নিয়ে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা শালাইনগর গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছে। অভাবের তাড়নায় পড়ার সুযোগ মেলেনি স্কুলে। সংসারের হাল ধরতে বছরখানেক আগে এক এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৮০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল অটোভ্যানটি। সেই ভ্যানের আয়েই চার জনের সংসার চলার পাশাপাশি পরিশোধ হতো এনজিওর কিস্তির টাকা।

মঙ্গলবার দুপুরে বাগাতিপাড়ার মালঞ্চি থেকে দুই যাত্রীবেশী প্রতারক ৭শ টাকা ভাড়া মিটিয়ে শাহাদতের অটোভ্যান নিয়ে বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় আসে। বনপাড়া গির্জা রোডে নিয়ে গিয়ে একজন লোক ভ্যানে বসে থাকে, আর অন্যজন শাহাদৎকে নিয়ে গলির ভেতর থেকে মালামালের কার্টুন আনতে যায়। গলির ভেতরে গিয়ে ওই ব্যক্তি শাহাদৎকে কার্টুন নেওয়ার জন্য অটোভ্যানটি ঠিক সেই স্থানে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়। সরল বিশ্বাসে শাহাদৎ ভ্যান রাখার স্থানে গিয়ে দেখে ভ্যানে বসে থাকা যাত্রী এবং তার অটোভ্যানটি উধাও! দ্রুত পেছনের গলিতে ফিরে গিয়ে কার্টুন আনতে যাওয়া ব্যক্তিকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হারিয়ে বনপাড়ার পথের ধারে বসেই অঝোরে কাঁদতে শুরু করে কিশোর শাহাদৎ। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে সাথে নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো হদিস পাননি।
ঘটনার খবর শুনে অশ্রুসিক্ত চোখে বনপাড়ায় ছুটে আসেন শাহাদতের মা জোসনা খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর তিন সন্তানসহ চারজনের সংসার আমাদের। ছেলের ভ্যান চালানোর আয়েই কোনোমতে সংসার চলতো। এখন ভ্যানও নেই, আয়ও নেই। সংসার খরচ ছাড়াও প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। এখন কীভাবে সংসার চালাবো, কীভাবে ঋণ শোধ করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা এখন একেবারে নিঃস্ব।”
ভ্যানটি উদ্ধারের আকুল আকুতি নিয়ে শেষ পর্যন্ত বড়াইগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শাহাদৎ ও তার মা।

এই বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ প্রতারক চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে অটোভ্যানটি উদ্ধারে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *