স্টাফ রিপোর্টার 
মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালন হচ্ছে নাটোরের মনোরম প্রকৃতির মাঝেই। জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খামার পাথুরিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারটির দুম্বার চাহিদাও বেড়েছে। দুম্বা ছাড়াও এই খামারে ১৪ প্রজাতির ছাগল, বিভিন্ন জাতের গরু ও গাড়ল রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এই খামারে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সুবিশাল পুকুরের ধারে, ছায়াঘেরা প্রকৃতির মাঝে ৩২ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে ‘ভাই ভাই ছাগল ও দুম্বা খামার’। এই খামারটিতে রয়েছে ১৪ প্রজাতির ৩০০টি ছাগল। এছাড়া রয়েছে গাড়ল ও গরু। তবে বিশাল পরিসরের এই খামারটির অন্যতম আকর্ষন মরুভূমির দুম্বা। ইতিমধ্যে জেলার একমাত্র দুম্বার খামার বলে পরিচিতিও পেয়েছে এটি।
খামারী হান্নান সরকার জানান , ২০০৭ সালে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে দুই জোড়া দুম্বা সংগ্রহ করেন । সেই থেকে দিনে দিনে খামাটিতে বেড়েছে দুম্বার সংখ্যা। গত কোরবানিতে এই খামার থেকে ৮০টি দুম্বা বিক্রি হয়েছিল। বর্তমান খামারটিতে টার্কি, আওয়াসি, নাগরি জাতের দুম্বার সংখ্যা ৬০টি। যার মধ্যে ৩০টি দুম্বা আসন্ন কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ওজনে দেড় মণ থেকে শুরু করে ৪মন পর্যন্ত । এক একটি দুম্বার দাম ১লাখ ২০হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪লাখ টাকা পর্যন্ত। তিনি জানান, মরুভুমির প্রাণী হিসাবে দুম্বার রোগ বালাই কম হয়। সেই সাথে খাবার খরচও কম। দেশের তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিয়েছে প্রাণিটি। লাভজনক হওয়ায় দেশে বানিজ্যিকভাবে দুম্বা পালনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
খামারী হান্নান সরকার আরো বলেন , শুরুতে তেমন চাহিদা না থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুম্বার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে কোরবানির মৌসুমে এর চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই কোরবানির পশু হিসেবে দুম্বা কিনতে আসেন। আবার অনেকে শুধু মরুর এই প্রাণীটিকে এক নজর দেখার জন্যও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। দুম্বা পালনে সাফল্য দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দিন জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া দুম্বা পালনের উপযোগী ও লাভজনক হওয়ায় এই দেশে বানিজ্যিকভাবে দুম্বা পালনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন , দুম্বা পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে প্রাণি সম্পদ বিভাগ।
