স্টাফ রিপোর্টার

সারাজীবন দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করলেও নিজের জমি রক্ষা করতে পারছে না সাবেক সেনা সদস্য জয়নাল আবেদীন ফৌজদার
। এক সময় যে জমি ফসলে ছিল ভরপুর,সে জমি এখন তৃণভূমিতে পরিনত হয়েছে।
জয়নাল আবেদীন ফৌজদার জানান,চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পৈত্রিক কিছু জমি নিয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন। হঠাৎ গতবছরের শুরুতে স্থানীয় প্রভাবশালী মাসুদ রানা মিঠুসহ তার বাহিনীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ জমি দখল করে নিজের জমি বলে দাবি করে এবং সাবেক সেনা সদস্য জয়নাল ফৌজদারসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রায় আড়াই বিঘা জমির পিঁয়াজ ও ভুট্টা সমূলে বিনষ্ট করে মিঠু বাহিনী। বর্তমানে তার পরিবারের উপর হুমকি ও অবরুদ্ধ করেও রাখা হচ্ছে।
উপায় না পেয়ে তিনি আদালতের আশ্রয় নেন।আদালত উভয়পক্ষকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এতে আলোর মুখ দেখে সাবেক সেনা তো সদস্য জয়নাল আবেদীন ফৌজদার। আশায় বুক বেঁধে সেই জমিতে আবারো গম বপন করে। কিন্তু অভিযুক্তরা আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি দখল করার চেষ্টা করে এবং সাবেক সেনা সদস্যকে প্রাননাশের হুমকি দেয় মিঠু বাহিনী। প্রাণের ভয়ে জয়নাল আবেদীন জমিতে যাওয়া বন্ধ করে দেয় সেই গমের জমি আবারও হয়ে উঠে তৃণভূমিতে।
সর্বশেষ মাননীয় আদালত গত পহেলা এপ্রিল উভয় পক্ষকে মামলার রায় প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত অবস্থানে অবস্থান এবং নতুন করে কোন দখল করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। কিন্তু মিঠু লোকজন নিয়ে সাবেক সেনা সদস্যের বাড়িতে আবারও হামলা করার চেষ্টা করে,পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মিঠুর বিরুদ্ধে শনিবার বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন করেছে,বাঁশিলা গ্রামের নারী-পুরুষরা। মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসী
বাবলু,জহিরুল,রেহেনা,মালু,জয়নাল আবেদন,সহ অনেকে জানান,এই জমিটি সাবেক সেনা সদস্য বংশপরম্পরায় চাষাবাদ করে আসছে। কিন্তু কিছু দিন থেকে আমরা দেখছি এই জমিটি একটি প্রভাবশালী মহল দখলের চেষ্টা চলছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে,মাসুদ রানা মিঠুর সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও,তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আদালতের নির্দেশে নোটিশ প্রদানকারী নলডাঙ্গা থানার এএসআই সোলায়মান আলী বলেন, বর্ণিত বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলমান । তাছাড়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তির পূর্ব পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্ব-স্ব অবস্থানে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
