২৭ অক্টোবর ২০২৬ | রাত ৭:২৯:১৯ মিনিট
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ পশুর হাটে সরকারি নির্ধারিত টোলের চেয়ে ছাগলপ্রতি ১০০ টাকা বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ছাগল বিক্রেতাদের কাছ থেকেও ২০ টাকা করে ‘চাঁদা’ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইজারাদারের জামাতা এরশাদ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ হাটে সরেজমিনে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বসে এ হাট। দেবীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে এখানে ছাগল কেনাবেচা করতে আসেন মানুষ। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি হাটে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি ছাগল কেনাবেচা হয়।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৪৩৩ বাংলা সনের দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণাধীন হাট ও বাজারের অনুমোদিত টোলের তালিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ছাগলের জন্য ক্রেতার কাছ থেকে ১৫০ টাকা আদায়ের বিধান রয়েছে। অথচ কালীগঞ্জ হাটে ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। অর্থাৎ ছাগলপ্রতি ১০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
দেবীডুবা ইউনিয়নের মহলদারপাড়া থেকে ছাগল কিনতে আসা মহসিন বলেন, ‘১৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি খাসি ছাগল কিনেছি। হাটে লেখাই খরচ নিয়েছে ২৫০ টাকা। তবে রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা ছিল না।’
একই অভিযোগ করেন পার্শ্ববর্তী চেংঠি এলাকার মোহন্ত রায়। তিনি বলেন, ‘বাসায় একটা অনুষ্ঠান আছে, তাই ছাগল কিনতে এসেছি। ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনেছি। আমার কাছে ২৫০ টাকা লেখাই নিয়েছে।’
অন্যদিকে, ছাগল বিক্রি করতে আসা হাফিজুল, আলামিনসহ কয়েকজন বিক্রেতা তাদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, স্থানীয়ভাবে এ অর্থ আদায়কে ‘চাঁদা’ বলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাট-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, পাইকাররা বেশি পরিমাণ ছাগল কিনলে তাদের কাছ থেকে ছাগলপ্রতি ১৫০ টাকা টোল নেওয়া হয়। তবে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২৫০ টাকা।
প্রতি হাটে ১০০ থেকে ১৫০টি ছাগল কেনাবেচা এবং ছাগলপ্রতি ১০০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের হিসাব অনুযায়ী, মাসে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় হতে পারে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩৩ বাংলা সনে আয়কর ও ভ্যাটসহ ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কালীগঞ্জ হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। হাটটির ইজারা পেয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আইয়ুব আলী। গত ২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হলে বর্তমানে তাঁর জামাতা এরশাদ হাটটি পরিচালনা করছেন।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী, হাটের একাধিক স্থানে সরকারি নির্ধারিত টোলের তালিকাসংবলিত সাইনবোর্ড প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। তবে সরেজমিনে হাটের কোথাও এমন সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। এ ছাড়া টোল আদায়ের রশিদেও টাকার পরিমাণ লেখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা এরশাদ বলেন, ‘আমরা ছাগলের ক্রেতার কাছে ২৫০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছে ২০ টাকা চাঁদা নিচ্ছি।’
সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে এই রেটেই তো নেওয়া হয়। আর চাঁদা যেটা তোলা হয়, সেটা মসজিদে দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#হাটে_আদায়ের #টাকা #ছাগল #আদায়ের #হাটে #কালীগঞ্জ



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *