১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | বিকাল ৩:১৩:১৪ মিনিট

নতুন একটি ফোন—সাধারণ এক তরুণের কাছে যা ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের আনন্দ। কিস্তিতে ফোনটি কিনে সেই স্বপ্ন পূরণও করেছিলেন তিনি।

কিন্তু সময়মতো কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সেই আনন্দই মুহূর্তে পরিণত হয় আতঙ্কে।

 

কিস্তি দিতে না পারলে সর্বোচ্চ যা হওয়ার কথা, তা হলো ফোনটি ফেরত নেওয়া। কিন্তু সেই সীমা পেরিয়ে তরুণের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা ভয়াবহ ও শিউরে ওঠার মতো। কিস্তি পরিশোধ করতে হয়েছে নিজের রক্ত দিয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউতে। সেই ফোন কেনার পর প্রতি মাসে কিস্তি দিতে হতো ২ হাজার ৭৯৯ রুপি। কিন্তু একটি কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় পরই বদলে যায় সব কিছু। অভিযোগ, বকেয়া কিস্তির টাকা আদায়ের নামে একটি বেসরকারি ফিন্যান্স কম্পানির রিকভারি এজেন্টরা ওই তরুণকে অপহরণ করে নিয়ে যান।

এরপর তাকে বন্দি করে রাখা হয় একটি বাড়িতে, বাধ্য করা হয় পরিচারকের কাজ করতে। এখানেই শেষ নয়, তার রক্ত বিক্রি করে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিযোগও উঠেছে। কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে একজন মানুষের সঙ্গে এমন নির্মম আচরণের ঘটনাটি রীতিমতো নাড়া দিয়েছে সবাইকে।

 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ওই ফিন্যান্স কম্পানির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে লখনউ পুলিশ। আরো এক অভিযুক্ত কর্মী পলাতক রয়েছেন।

তার সন্ধান দিতে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, লখনউয়ের শেষ প্রান্তের রাজারামখেরা গ্রামের বাসিন্দা নেহাল স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ রুপিতে একটি মোবাইল ফোন কেনেন। ইএমআইয়ের মাধ্যমে কেনা ওই ফোনের জন্য এক বছর ধরে প্রতি মাসে ২ হাজার ৭৯৯ রুপি করে কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল।

 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নেহালের কোনো চাকরি বা নিয়মিত কাজ ছিল না। এরপরও দোকানদার ও ফিন্যান্স কম্পানি তাকে মোবাইল কেনার জন্য ঋণ দেয়। ফলে প্রথম মাসের কিস্তিই দিতে পারেননি নেহাল। এরপর কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য রিকভারি এজেন্টরা তার ওপর চাপ দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।

গত ৮ সেপ্টেম্বর শুভম ও অনিকেত নামে দুই রিকভারি এজেন্ট নেহালের বাড়িতে যান। অভিযোগ, সেখান থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক রক্তদান করানো হয়। সেই রক্ত বিক্রি করে কিস্তির টাকা আদায় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এরপর নেহালকে শুভমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চারদিন আটকে রেখে পরিচারকের কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। নেহালকে ছেড়ে দেওয়ার আগে তার দাদা রাজকুমারের কাছ থেকেও এক মাসের কিস্তির টাকা আদায় করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লখনউ সাউথের ডিএসপি মহম্মদ মুস্তাক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি নেহাল ও তার মাকে নিয়মিত হেনস্থা করছিলেন। পরে নেহালের মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে রিকভারি এজেন্টরা জোর করে তুলে নিয়ে গেছেন।

এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে। কল ডিটেইলসের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে শুভম ও অনিকেতকে গ্রেফতার করা হয়। তবে আরেক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনায় ওই ফিন্যান্স কম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাংকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর এ ঘটনায় আর কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *