
নাটোরের নলডাঙ্গায় ফাঁদ পেতে শালিক পাখি শিকার করে জবাইয়ের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বন্যপ্রাণী হত্যার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বন বিভাগ।
রোববার বিকেলে নলডাঙ্গা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন নাটোর এসএফএনটিসি, সামাজিক বনবিভাগ, রাজশাহীর ফরেস্ট রেঞ্জার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা এলাকার একটি বিলে ফাঁদ ও জাল ব্যবহার করে শালিক পাখি শিকার করে জবাই করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২০ ও ২৭ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি বিল এলাকায় ফাঁদ পেতে শালিক পাখি ধরছেন। পরে পাখিগুলো জবাই করে একটি তালগাছের নিচে জড়ো করে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গত ১৯ জুলাই হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে ঘটে। সেখানে বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন ও সজিব হোসেনসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জবাইয়ের পর পাখিগুলো বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভিডিওটি গত শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বন বিভাগের অভিযোগে বলা হয়েছে, শালিকসহ বিভিন্ন পাখি প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব পাখি ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। পাখি শিকার ও হত্যার ঘটনায় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফরেস্ট রেঞ্জার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “হাটবিলা এলাকায় শালিক পাখি হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের ব্যথিত করেছে। বন্যপ্রাণী হত্যা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে নলডাঙ্গা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা সুবেদার ইসলাম জানান, নলডাঙ্গায় পাখি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরে আলম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পাখি শিকার বন্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
