নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তওবা করানোর পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম (৩৫)-এর বিরুদ্ধে একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করে তওবা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয় এবং ভবিষ্যতে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়াবেন না—এমন অঙ্গীকার নেওয়া হয়। এরপর স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
‘উদ্দেশ্য ছিল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া’
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। শুক্রবার মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির চেষ্টার সময় স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
তার ভাষ্য, “শাস্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। তাই তার কাছ থেকে তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশকে কেউ অবহিত করেনি।
তিনি জানান, চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত।
উল্লেখ্য, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠলেও আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী বলা যায় না।
