চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এতিমখানার জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্রশাসন তদন্তে নেমেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের মুখে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লা বিভিন্ন এতিমখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের এক টন (১,০০০ কেজি) চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেককে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি চাল। বাকি চালের পরিবর্তে কাউকে ১৫ হাজার, আবার কাউকে ১৭ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

তাদের দাবি, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন এতিমখানায় গিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে ফেরত দেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ ফিরে পেয়েছে।

উপজেলার সাড়ে পাঁচানী হোসাইনীয়া এতিমখানার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমীন মাস্টার বলেন, বহুবার সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এজন্য তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে কলাকান্দা ইউনিয়নের সাতানী নেদায়ে ইসলাম আশেকী মনজুর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি বাহাউদ্দিন জানান, এক টন চালের পরিবর্তে প্রথমে মাত্র ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল আর কিছু দেওয়া হবে না। পরে সংবাদ প্রকাশের পর আরও ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, যা এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

এদিকে, ২০টিরও বেশি এতিমখানায় গিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার ভিডিওচিত্র থাকার বিষয়টি জানানো হলেও অভিযুক্ত মনির হোসেন মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাল বিতরণ কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *