সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ফুট আর্জেন্টিনা পতাকা টাঙিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ভক্তরা। এই আলোচনার মধ্যেই তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ জবাই করে খাওয়ানো হবে। সেই ঘোষণার প্রায় একমাস পর আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলো ঠিকই। কিন্তু সেই গ্রামে হয়নি মহিষ জবাই।

 

এর আগে গত ১৭ জুন উপজেলার ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামের সমর্থকরা আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর ঘোষণা দেন।

এদিকে রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনালে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। মূলত রাতে ফাইনাল খেলা শুরুর আগেই মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর কথা ছিলো।

কিন্তু রোববার বিকেলে ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মহিষ জবাইয়ের কোনো রেশ মাত্র নেই গ্রামটিতে। আঞ্চলিক একটি সড়কের কালভার্টের ওপর কয়েকটি সাউন্ড বক্স বাজানো হচ্ছে।

 

এই পরিস্থিতিতে মহিষ জবাইয়ের ঘোষণা দেওয়া আর্জেন্টিনার সেই ভক্তদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি আলোচনায় আসার পর মূলত ওই গ্রামের ‘প্রবাসী ভাইয়েরা’ আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পর তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সফল হওয়া যায়নি। এতে মহিষ কেনার টাকা যোগাড় করা সম্ভব হয়নি।

 

মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর ঘোষণা দেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে একজন নয়ন আলী। তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপ খেলা শুরুর পর থেকে আমাদের গ্রামের প্রবাসী আর্জেন্টিনা সমর্থক ভাইদের সহযোগিতায় সাড়ে তিন হাজার ফুট আর্জেন্টিনার পতাকাসহ মাঝে মধ্যে আর্জেন্টিনার খেলা শেষে ভূড়িভোজ করা হতো। প্রবাসী ভাইয়েরা মূলত আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পর থেকে তাদের সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ফোন ও ম্যাসেজ দিয়েও কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। যার ফলে মহিষ কেনা হয়নি। তবে গ্রামের আর্জেন্টিনা ভক্তদের মধ্যে ছাত্ররা সাউন্ড বক্স ও রাতে হালকা খাবারের আয়োজন করেছে।

 

এদিকে ঠাঁকুরঝিপাড়া গ্রামের ব্রাজিল সমর্থক আশরাফুল সরকার বলেন, আমরা প্রথমে বলেছিলাম ব্রাজিল ফাইনালে উঠলে গরু জবাই করে খাওয়ানো হবে। আমাদের দেখাদেখি ভাইরাল হওয়ার জন্য আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর ঘোষণা দেন গ্রামের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। আর ব্রাজিল ফাইনালে উঠলে আমাদের ঘোষণা অনুযায়ী অবশ্যই গরু জবাই করে খাওয়ানো হতো।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *