
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে উঠে এসেছিল সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ অনেক কর্মকর্তার নাম। পলক এখন জেলে। তবে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা এখনো দাপটের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন তাদের দায়িত্ব।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ আইসিটি খাতের বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমেনি। মূলত পলকের একান্ত সহকারী (পিএ) আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) শফিক উদ্দিন ভূঁইয়াসহ সহযোগীরা মিলে এখনো পুরো খাতটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিখাতে অনিয়ম দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা তুলে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আদেশক্রমে গঠিত হয় টাস্কফোর্স। নেতৃত্বে ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ।
সদস্য ছিলেন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজওয়ান খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মফিজুর রহমান ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রিফাত শাহরিয়ার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুন্ড্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা হোসাইন, যুক্তরাজ্যের আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার আফজাল জামি সৈয়দ আলী, ছাত্রপ্রতিনিধি মো. শরিয়ত উল্যাহ ও আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিত।
এই টাস্কফোর্স সাড়ে ৬০০ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। যেটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেও আবার তুলে নেয়।
পলক ও চার এমডির দুর্নীতি
জুনাইদ আহমেদ পলক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ২০১৪-২০২৪ পর্যন্ত। ওই সময়ে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কয়েকজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি, হাই-টেক পার্ক ও শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের মতো বড় বড় প্রকল্প থেকে ১৫ শতাংশ হারে নির্দিষ্ট কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শ্বেতপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, হাই-টেক পার্কের এই দুর্নীতি চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সাবেক এমডি ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষসহ একটি বিশেষ সিন্ডিকেট। বিকর্ণ কুমার ঘোষের সময়কালে (২০২১-২০২৩) হাই-টেক পার্কের জমি, ফ্লোর স্পেস ও ওয়ানস্টপ সেবা দেওয়ার নামে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ওরিক্স বায়ো-টেক নামক একটি চীনা কোম্পানিকে ২৫ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, র্যাংগস/বাটারফ্লাই কোম্পানির কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা এবং নাজ-ডাক কোম্পানি থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে দুর্নীতির শ্বেতপত্রে।
দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের নামে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এতে জমি কেনা, অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি তহবিলের অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে বলে প্রমাণ মেলে।
শ্বেতপত্র ও বিভিন্ন তদন্তে আরও দেখা যায়, প্রায় ১৪শ ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনটি হাই-টেক পার্ক, তিনটি সফটওয়্যার পার্ক ও চারটি ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মসংস্থান বা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়নি। যথাযথ ইকোসিস্টেমের অভাব ও কেবল লুটপাটের উদ্দেশ্যে প্রকল্প প্রণয়ন করায় এগুলো প্রায় বিনিয়োগশূন্য ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন।
প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বারবার বাড়িয়ে পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) ও ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত অনুগত এবং দলীয় সিন্ডিকেটকে প্রাধান্য দেওয়া হতো, যার মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
পলকের পিএ থেকে প্রভাবশালী কর্মকর্তা
আনোয়ার হোসেন ৫ আগস্টের আগে অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে পলকের দপ্তরে গিয়ে পরে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হন। ৫ আগস্টের পর অবৈধ প্রবিধানমালা দিয়ে হয়ে যান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। বর্তমানে গবেষণা শাখা, বিনিয়োগ অধিশাখা ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের দায়িত্বে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে প্রশাসন শাখায় কাজ করেন।
পলকের পিএ থাকা অবস্থায় তদবির বাণিজ্য করে অগণিত টাকার মালিক হন এবং সম্পদের পাহাড় তৈরি করেন। ঢাকায় প্লট-ফ্ল্যাট ও গ্রামের বাড়ি মুক্তাগাছায় বিঘার পর বিঘা সম্পত্তি, মুরগি, গরুর খামার গড়ে তুলেছেন, যার সবকিছু স্ত্রী ও শ্বশুরের নামে করা।
বর্তমানে আইসিটিতে কাজ করা একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা অবাক হয়ে যাই- খালেদা জিয়া, তারেক রহমানকে নিয়ে সব সময় বাজে মন্তব্য করা ব্যক্তি এখনো বহাল তবিয়তে। আনোয়ার মূলত পলকের স্ত্রীর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন এবং পলক দুর্নীতি ধরলেও কনিকার কারণে তার কিছু হতো না।
১৬ গ্রেডের কর্মচারী হয়েও পলকের ক্ষমতার জোরে তুরস্ক, জাপান, রাশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়াসহ ১৮টি দেশে সরকারি টাকায় ভ্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ আনোয়ারের বিরুদ্ধে।
শফিক ভূঁইয়ার বহুমুখী পদ ও দুর্নীতি
২০১৯ থেকে ২০২৪ সময়ে এমডির একান্ত সচিব ও হাই-টেক পার্কের গবেষণা কর্মকর্তা শফিক উদ্দিন ভূঁইয়া রাতারাতি দল পরিবর্তন করে বর্তমানে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা নিচ্ছেন। ‘জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন’ প্রকল্প থেকে শুরু করে ১২টি আইটি প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে।
৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক (নবম গ্রেড)। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব (চতুর্থ গ্রেড)।
বর্তমানে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির (বিফট) প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ, শীর্ষক প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক, আইটি পার্ক, জামালপুরের উপ-পরিচালক (অ.দা), আইটি পার্ক, ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক (অ. দা.), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (পার্সোনাল সেবা শাখা)। একই প্রতিষ্ঠানে উপ-পরিচালকের (মানবসম্পদ ও নির্বাহী বোর্ড শাখা) দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত ভাতা পান।
নথি জালিয়াতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২৫’ অবৈধভাবে অনুমোদন ও এসআরও হিসেবে গেজেট প্রকাশ করিয়ে অবৈধ প্রমোশন নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করেও শুধু ছাত্রলীগকর্মী পরিচয় দিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার নাম ভাঙিয়ে পলকের মাধ্যমে হাই-টেক পার্কের গবেষণা কর্মকর্তার মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ নবম গ্রেডের সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেন। সাবেক এমডি এ কে এম আমিরুল ইসলাম যোগদানের পর শফিক রাতারাতি দল পরিবর্তন করে এমডিকে ম্যানেজ করে আরও পাঁচটি পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুনকে চাচাতো ভাই, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মো. মিজানুর রহমানকে বাল্যকালের বন্ধু, সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের শ্যালক এবং কিশোরগঞ্জের সাবেক এমপি ডা. লিপিকে রাজনৈতিক বড়বোন বলে পরিচয় দিয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতেন তিনি।
অনুমোদিত নিয়োগ বিধির আলোকে আমি নিয়োগ দিচ্ছি। এতে আগে প্রবিধানমালা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠে থাকলে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমি মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপরাধ থাকলে আগের কেউ ব্যবস্থা নেয়নি কেন? সরকার তো চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে নিতে পারে।-বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমান
শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫ হাজার ৭৬০ টাকা এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮০ টাকাসহ মোট প্রায় ৭ লাখ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করেন, যার অডিট আপত্তি হলেও তিনি অদ্যাবধি তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেননি। আইন লঙ্ঘন করে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সীমার বাইরে গিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন শফিক।
এছাড়া ১২টি আইটি প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও নির্মাণকাজের টেন্ডারের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিদেশ থেকে ডিউটি ফ্রি ইক্যুপমেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস শাখা থেকে এনওসি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় স্যামসাংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক ধাপে আড়াই কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সফটওয়্যারসহ অন্য মালামাল কেনায় অনিয়মের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরের আপ্যায়ন ব্যয় বাবদ ৩৮ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। জমি ও স্পেস বরাদ্দ দিয়েও কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন শফিক। সাবেক এমডি বিকর্ণ কুমার ঘোষের দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী ছিলেন তিনি।
কম্পিউটার অপারেটর ও স্টোর কিপার নিয়োগ পরীক্ষায় ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষায় সহায়তা করে অনিয়ম করেছেন শফিক। অভিযোগকারীর সেই চিঠি প্রতিবেদকের হাতেও এসেছে।
মন্ত্রণালয় পাশ কাটিয়ে প্রবিধানমালা!
নিজেদের পদোন্নতি নিয়ে নেওয়ার পর শফিক ভূঁইয়া বর্তমানে অবৈধ প্রবিধানমালার মাধ্যমে জনবল নিয়োগের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে অভিযোগ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শ্বেতপত্র প্রকাশ হলেও স্বপদে বহাল থেকে আরও বড় অপরাধে জড়িয়েছে শফিক-আনোয়ার সিন্ডিকেট। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০২৫’ মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে মনমতো করে নেয় তারা। পরবর্তীসময়ে মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে এটিকে বিধিসম্মত নয় বলে সভায় মত দিলেও অদৃশ্য কারণে পার পেয়ে যায় সিন্ডিকেট সদস্যরা।
এ সংক্রান্ত প্রমাণ জাগো নিউজের হাতে এসেছে, সেখানে দেখা যায়, ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রবিধানমালা গেজেট হয়। ২২ অক্টোবর ২০২৫ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ সংক্রান্ত একটি ফাইল তোলেন। সেখানে দুই উপ-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও তৎকালীন আইসিটি সচিব শীষ হায়দারও একমত হয়ে স্বাক্ষর করেন।
নথিতে বলা হয়, ‘গত ১৩.০৭.২০২৫ তারিখে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে প্রেরণ করার সময় হতে পরবর্তী কোনো কার্যক্রমে এ শাখা থেকে পরিচালিত হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে অর্গানাইজেশনের সাপোর্ট অনুবিভাগ জ্ঞাত নয়।
থির নোটাংশে দেখা যায়, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের দ্বারা নোট উপস্থাপিত হয়েছে এবং তা বিভাগে না এসে সরাসরি সচিব মহোদয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ কার্যক্রম রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী এ বিভাগের ওপর ন্যস্ত। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে নথি সংগ্রহ এবং পরবর্তীসময়ে নোট উপস্থাপন, অনুমোদন, ভেটিংকৃত প্রবিধানমালার শুদ্ধতা যাচাই এবং এসআরও জারিসহ গেজেট প্রকাশনা বিষয়ক কোনো কার্যক্রম এ শাখা থেকে গ্রহণ করা হয়নি এবং অধিশাখা ও অনুবিভাগ অবহিত নয়।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২৫ গেজেট প্রকাশের পর নথিটি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে শাখায় ফেরত পাঠানো হয়। এ বিভাগের নথিতে অধীনস্থ সংস্থা কর্তৃক নোট উপস্থাপনসহ অন্য কার্যক্রম গ্রহণ বিধিসম্মত নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ বিষয়ে সচিব মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা/অবহিতকরণ এবং সদয় নির্দেশনা প্রয়োজন।’
এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল খোদ শফিক উদ্দিন ভূঁইয়া। এমডি ও সচিবকে ম্যানেজ করে নিজেদের পদোন্নতির নির্দিষ্ট সময় কমানো এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার স্থলে বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতি দেওয়ার বিধান যুক্ত করে ফাইল নিজ হাতে স্বাক্ষর করিয়ে পাস করেন। যেটি করে ইতোমধ্যে শফিক ভূঁইয়াসহ অন্যরা পদোন্নতি নিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের নিয়োগ বাণিজ্য নিশ্চিত করছেন।
জিবানুর-বিনতে-জহির
আইসিটির আরেক রহস্যময়ী অ্যাক্টর জিবানুর-বিনতে-জহির। তিনি সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম), পরিকল্পনা-২ শাখা ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক (অ:দা:) ১৪ আইটি প্রকল্প)। তিনি পলকের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তুরস্ক, জাপান, রাশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়াসহ ১০টি দেশে সরকারি টাকায় ভ্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে পলক সিন্ডিকেটের সহযোগিতাসহ নানা মুখরোচক গল্প আছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিবানুর জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমন প্রশ্ন আমি আগে শুনিনি। আপনার মুখে প্রথম শুনলাম।’
আরও দুই অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ও শফিক উদ্দিন ভূঁইয়াকে মোবাইলে কল দিলে রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠালেও তাতে সাড়া দেননি।
জানতে চাইলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সবগুলো বিষয় হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের। সেখানকার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে ভালো হয়।’
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনুমোদিত নিয়োগ বিধির আলোকে আমি নিয়োগ দিচ্ছি। এতে আগে প্রবিধানমালা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠে থাকলে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমি মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপরাধ থাকলে আগের কেউ ব্যবস্থা নেয়নি কেন? সরকার তো চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে নিতে পারে।’
