
স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়কে বাজার বসায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নগরবাসীকে দুর্ভোগে পড়তে হতো। গত তিন দশক পর সরলো টমছমব্রিজ সড়কের সেই গলার কাঁটা। এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে নগরবাসী। একইসঙ্গে তারা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে নগরীর টমসমব্রিজ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বাজারটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এসময় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে টমসমব্রিজ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে নগরবাসীর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রয়োজনে শহরে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের তত্ত্ববধানে পরিচালিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
সিটি করপোরেশনের অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া টমছমব্রিজ কাঁচাবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জাবেদ বলেন, আগে থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তারপরও কোনোভাবে টিকে থাকার সুযোগ চেয়ে আমরা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু সিটি করপোরেশন শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে উচ্ছেদ করলো। এখন এই মালামাল নিয়ে কোথায় যাব?
সবজি ব্যবসায়ী হৃদয় হোসেন বলেন, আমার দোকানটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, কোনোরকমে মালামাল সরাতে পেরেছি। আমরা এখানে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতাম।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন বলেন, নগরীতে যানজট কমানো, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলছেন, যেকোনো স্থাপনা উচ্ছেদের আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে জানানো হয়। যারা সেই নোটিশ মানেন না তাদেরই পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ করে। সড়কের ওপর যত অবৈধ স্থাপনা থাকবে, সবগুলোই আইনানুগভাবে অপসারণ করা হবে।
অভিযান চলাকালে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরাসহ সিটি কপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
