০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সকাল ১১:২২:৫৫ মিনিট

সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশে পানি পড়ছে। মূল ভবনের পাশাপাশি দক্ষিণ প্লাজা, ভিআইপি বাংলো, মন্ত্রী হোস্টেল, পুরোনো সংসদ সদস্যদের হোস্টেল ও সচিব হোস্টেলেও একই ধরনের সমস্যার দেখা দিয়েছে।

 

দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবেশের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে সংসদের মেইন মেকানিক্যাল প্ল্যান্ট (এমএমপি)। সেখানে থাকা প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচে অবস্থিত এমএমপিতে রয়েছে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জিআইএস প্যানেল, ছয়টি জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ও সেন্ট্রাল স্টোর রুম। বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি চুইয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ ও যন্ত্রপাতির আশপাশে পানি জমে যাচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় যন্ত্রপাতির সঙ্গে পানির সংস্পর্শে শর্টসার্কিটের ঝুঁকি রয়েছে। এতে শুধু মূল্যবান সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাই নয়, সংসদ কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

 

ঝুঁকি কমাতে আপাতত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ওপর টিনের অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি প্রবেশের পথ বন্ধ করতে সংসদ ভবনের গ্লাস ব্রিকসের জয়েন্ট মেরামত এবং বিভিন্ন ভবনের ছাদ পানি প্রতিরোধী করার কাজ চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সাময়িক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।

 

এদিকে বৃষ্টির সময় সংসদ ভবনের বিভিন্ন প্রবেশপথেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন বকুলতলা গেট সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

 

সম্প্রতি শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনেও সংসদ ভবনের পানি পড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি দলের হুইপ জিকে গউছ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, সংসদ ভবনের মসজিদের সামনেও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। পানি ঠেকাতে সেখানে সারিবদ্ধভাবে বালতি রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও। তিনি জানান, সংসদ ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ার বিষয়টি তারাও অবগত। পরে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, সংসদ ভবনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কাজ শুরু হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরও সংসদে বিষয়টি সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পানি পড়ার স্থানগুলো চিহ্নিত করে মেরামতের কাজ শুরু করলেও এর গতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।

 

স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও সাময়িক সংস্কারনির্ভরতার কারণে ভবনটির স্থাপত্য ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সদ্য সংবাদ/এসকে



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *