লালালপুরে ভয়াবহ লাম্পি রোগের প্রাদুর্ভাব মারা গেছে ৩৬টি গরু,টিকা সংকট #সংবাদ শৈলীলালালপুরে ভয়াবহ লাম্পি রোগের প্রাদুর্ভাব মারা গেছে ৩৬টি গরু,টিকা সংকট #সংবাদ শৈলী

স্টাফ রিপোর্টার

লালালপুরে ভয়াবহ লাম্পি রোগের প্রাদুর্ভাব মারা গেছে ৩৬টি গরু,টিকা সংকট #সংবাদ শৈলী
লালালপুরে ভয়াবহ লাম্পি রোগের প্রাদুর্ভাব মারা গেছে ৩৬টি গরু,টিকা সংকট #সংবাদ শৈলী

নাটোরের লালপুর উপজেলায় গবাদিপশুর প্রাণঘাতী লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টিকার তীব্র সংকট, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত সংক্রমণের কারণে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩৬টি গরুর মৃত্যু হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পদ্মা তীরবর্তী বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এক মাসের ব্যবধানে মহরাজপুর, নওশারা, সুলতানপুর ও আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। ইউনিয়নটিতেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে।

নওসারা সুলতানপুর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি মো. ফিরোজ আলীর খামারে ছিল পাঁচটি গরু। লাম্পি রোগের কারণে লোকসান গুনে অর্ধেক দামে কয়েকটি গরু বিক্রি করতে বাধ্য হন। পরে নতুন করে তিনটি গরু কিনলেও একটি গাভীর তিন মাস বয়সী বাছুর আবারও লাম্পিতে আক্রান্ত হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চিকিৎসা করিয়েও সুস্থ হয়নি। সরকারি হাসপাতালে সহযোগিতা না পেয়ে তিনি নিজ খরচে টিকা কিনে অন্য গরুগুলোকে সুরক্ষার চেষ্টা করেছেন।

একই গ্রামের খামারি নুর নবী ঘোষ জানান, তার খামারের ছয়টি গরু মারা গেছে এবং আরও তিনটি আক্রান্ত রয়েছে। একাধিকবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। টুটুল ইসলাম, শাহানাজ পারভীনসহ আরও অনেক খামারিও একই অভিযোগ করেছেন।

পানসিপাড়া গ্রামের দিনমজুর কামরুল ইসলাম ও ফতেপুর গ্রামের জোসনার মতো অনেকেই টিকা না পেয়ে নিমপাতা, ধূপ, ন্যাপথলিন ও হোমিও চিকিৎসার মতো ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছেন। এতে রোগ নিয়ন্ত্রণে তেমন সুফল মিলছে না।

স্থানীয় পশুপল্লী চিকিৎসক মোসলেম উদ্দিনের দাবি, শুধু বিলমাড়িয়া ইউনিয়নেই গত এক মাসে ৪৫ থেকে ৫০টি গরু মারা গেছে। যদিও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬টি গরুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, লালপুরে মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার গরু ইতোমধ্যে লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার জন্য বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৩৫০ ডোজ টিকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু তথ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, জুলাই মাসের জন্য ২৫ হাজার ডোজ টিকার চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শুভ কুমার দাস খামারিদের আক্রান্ত পশু আলাদা রাখা, খামার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *