১৪ অক্টোবর ২০২৬ | রাত ৯:১২:১১ মিনিট

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সুইডিশ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে প্যারিসের উপশহর সেইন্ট-দেনির পল এলুয়ার হাইস্কুলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান নেন তিনি। দেশজুড়ে আরও বিক্ষোভের প্রস্তুতির মধ্যে তার এ অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। খবর আল জাজিরার

বার্তা সংস্থা এএফপিকে গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, ‘তরুণদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের একাধিক অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় আইনজীবীদের একটি দলও সেখানে মানববন্ধন তৈরি করে। আইনজীবীরা তাদের কালো গাউন পরেই শিক্ষার্থীদের চারপাশে মানবঢাল গড়ে তোলেন।

গেল সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন শুরু হয়। স্কুল ভবনের বেহাল অবস্থা, শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তারা। দেশটির শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার পাত্র স্তূপ করে এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বড় ধরনের বিক্ষোভে রাস্তায় নেমেছিলেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ।  মঙ্গলবারের বিক্ষোভে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর পাশাপাশি বামপন্থী বিরোধী দল ফ্রান্স আনবোডের সমর্থন রয়েছে। এদিন প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে মিছিল ও সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন ল্যুনিয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, ‘তারা আমাদের কথা শুনছে না, তাই আমরা তাদের কাছে যাচ্ছি।’

ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে মঙ্গলবার সকালে ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, প্রায় ২০০টি স্কুল বন্ধ রয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কম। তবে বিক্ষোভের মিছিলের কাছাকাছি থাকা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশটির জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবারের বিক্ষোভে শিক্ষক-কর্মচারীদের আটজন আহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই প্যারিস অঞ্চল এবং বোর্দো ও লিওঁ শহরের।

লিও নামের ১৯ বছর বয়সী এক গ্রাফিক ডিজাইনের শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে তাদের প্রস্তাবগুলোও পৌঁছাচ্ছে না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আগে কখনো দেখা যায়নি, এমন মাত্রার দমন-পীড়নের কারণে তারা উদ্বিগ্ন।

ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের ২৪টি অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *