
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার শ্যামনগর এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরবর্তী এলাকা, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধটি ভেঙে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে নাটোরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। নদীভাঙন ঠেকাতে প্রতিবছর জিওব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা এলেই নদীর স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়ে। তখন জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বছর ঘুরতেই আবারও একই জায়গায় তৈরি হয় ঝুঁকি। এতে একদিকে যেমন নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়, অন্যদিকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয়ে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে।

শ্যাম নগরের অধিবাসী ফরিদা বেগম, জহেদ আলী প্রাং, আহম্মেদ আলী, কছের আলী বলেন, নদীভাঙন থেকে বাঁধ রক্ষায় বর্তমানে জিওব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা টেকসইতা নিয়েই এখন তাদের সন্দেহ রয়েছে।অন্যদিকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয়ে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে।
তারা বলেন, বারবার জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সম্প্রতি স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছেন। মানব বন্ধনে বক্তারা দ্রুত নদীতীরে শক্ত ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম বলেন, নদীভাঙন রোধ ও বাঁধ রক্ষায় নলডাঙ্গার শ্যামনগর এলাকায় চলতি অর্থবছরেই কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজটি শেষ হলে ওই এলাকার বর্তমান ঝুঁকির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে বলে জানান তিনি।
