০৪ নভেম্বর ২০২৬ | রাত ৭:৩৪:৪৬ মিনিট
এমপি আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় জেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতা, স্বাক্ষরে অনড় আহ্বায়ক#সংবাদ শৈলীএমপি আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় জেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতা, স্বাক্ষরে অনড় আহ্বায়ক#সংবাদ শৈলী
স্টাফ রিপোর্টার

এমপি আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় জেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতা, স্বাক্ষরে অনড় আহ্বায়ক#সংবাদ শৈলী
এমপি আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় জেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতা, স্বাক্ষরে অনড় আহ্বায়ক#সংবাদ শৈলী
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজকে নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও এবং ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তাঁর ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর নাম আসায় দলীয় অঙ্গনেও বাড়ছে চাপ। এমপি আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশে জেলা বিএনপির অধিকাংশ সদস্য একমত হলেও শেষ পর্যন্ত তাতে স্বাক্ষর করতে রাজি হননি আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ। তাঁর অনাগ্রহের কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় নাটোরের হরিশপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ডিউক, জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল, সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, গত ২৮ অক্টোবর সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করতে গত ৩০ অক্টোবর জেলা বিএনপির সদস্যদের নিয়ে জেলা পরিষদে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ২৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন এমপি আজিজের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠাতে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করেন।
তবে সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করার পরও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন সদস্য সচিব। তিনি বলেন, আহ্বায়ক কখনো পরে, আবার কখনো পরদিন স্বাক্ষর করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওই সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করবেন না। এতে দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আসাদুজ্জামান আসাদ আরও বলেন, জেলা বিএনপির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে চান না। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এমপি আব্দুল আজিজকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কেন্দ্র থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও যেকোনো সময় তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হতে পারে।
শাকিল হত্যা মামলায় অপরাধীদের শাস্তি চায় বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার বিষয়েও কথা বলেন আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জেলা বিএনপি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করে আসছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে এমপি আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁকে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এ ঘটনায় মিন্টুকে ইতিমধ্যে যুবদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল বলেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ মামলায় এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু রিমান্ডে রয়েছেন। তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। সদস্যসচিব সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এমপির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ এদিকে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং শাকিল হত্যা মামলায় এমপির ছেলের নাম আসার ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। আব্দুল আজিজকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবিতে গুরুদাসপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজাউদ্দোলা সুজনের অনুসারীরা।
এমপির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও গুরুদাসপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মশিউর রহমান বাবলু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।
হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার, ফেসবুক লাইভে নির্দোষ দাবি
এদিকে শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ইরফান নিয়াজ ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে এ মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রাজশাহীর একটি রেস্টুরেন্টে ছিলেন। তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড (সিডিআর) যাচাই করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে থেকেই রাজশাহীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন বলেও জানান ইরফান। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
যা বললেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও এমপি আজিজ
সদস্য সচিবের অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ বলেন, কেন্দ্র থেকে এমপি আব্দুল আজিজের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়নি। তিনি সদস্যসচিবকে সরাসরি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি বলেই তিনি সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি হননি। সংবাদ সম্মেলনের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র। আর শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তাঁর ছেলের সংশ্লিষ্টতা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হলে তিনি নিজেও আইনগত ব্যবস্থা চান।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু, আনিসুর রহমান ও আলামিন কারাগারে রয়েছেন।



By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *