
সিলেটের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায়ে অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মহানগর শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ জজ আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে এবং সম্পর্কে নিহত শিশুটির চাচা।
তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা হলো। আদালত জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের খালাস দেন।
চলতি বছরের ১১ মে রাতে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশ জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্তকে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
গত ৬ মে ফাহিমা নিখোঁজ হয়। নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।
ঘটনার দুই দিন পর গত ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, জাকির প্রথমে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সেটি পানিতে না ডোবায় ডোবার পাশেই ফেলে রেখে যান। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
