যেভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে?#ছবি সংগৃহিতযেভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে?#ছবি সংগৃহিত
যেভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে?#ছবি সংগৃহিত
যেভাবে ‘সুরের রানী’ হয়ে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে?#ছবি সংগৃহিত

সংবাদ শৈলী ডেস্ক
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে উপমহাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজার হাজার গান গেয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘সুরের রানী’,যা শুধু জনপ্রিয়তার নয়, বরং বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রতীক।

১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম নেওয়া আশার বেড়ে ওঠা একেবারেই সঙ্গীতের আবহে। তাঁর বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন নাট্য অভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পথ অনুসরণ করেই খুব অল্প বয়সে গানের জগতে পা রাখেন তিনি। মাত্র ৯ বছর বয়সে, ১৯৪৩ সালে শুরু হয় তার সংগীতযাত্রা।
ক্যারিয়ারের শুরুটা সহজ ছিল না তার। দীর্ঘদিন তাকে ‘লতার ছোট বোন’ পরিচয় নিয়েই এগোতে হয়েছে।

তবে নিজের প্রতিভা, কণ্ঠের স্বতন্ত্রতা এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তৈরি করেন নিজস্ব পরিচয়। ১৯৫০-এর দশকে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিলেও তখনও তিনি একটি নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।
পরিবর্তনের বড় মোড় আসে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে। তাঁদের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি হয় ভিন্নধর্মী, আধুনিক ধারার বহু গান, যা দ্রুত শ্রোতাদের মন জয় করে।

এরপর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। প্লেব্যাক গানে নিজেকে কখনোই একটি নির্দিষ্ট ধারায় আটকে রাখেননি। ক্যাবারে, লোকসংগীত, রোমান্টিক কিংবা গজল—সব ক্ষেত্রেই ছিল তার সমান দক্ষতা।
৬০ ও ৭০-এর দশকে বলিউডের নাচের গানে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তোলেন আশা ভোঁসলে। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’—এমন অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে।

বিশেষ করে পর্দার নাচে অভিনেত্রী হেলেনের সঙ্গে তার কণ্ঠ যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে তোলে।
তবে একসময় তাকে নিয়ে ধারণা ছিল তিনি শুধু হালকা বা নাচের গানেই পারদর্শী। সেই ধারণা ভেঙে দেন তিনি নিজেই। ‘উমরাও জান’ ছবির গজল গেয়ে জিতে নেন জাতীয় পুরস্কার। পরে ‘ইজাজাত’ ছবির ‘মেরা কিছু সামান’ গানেও তার কণ্ঠ নতুন মাত্রা যোগ করে। এতে প্রমাণ হয়, তিনি কেবল এক ঘরানার শিল্পী নন বরং সম্পূর্ণ এক বহুমাত্রিক গায়িকা।

পরবর্তীকালে সুরকার আর ডি বর্মনের সঙ্গে তার সংগীতজীবনে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। একসঙ্গে তারা উপহার দেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। পরে ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একসঙ্গে পথ চলা শুরু করেন, দাম্পত্যজীবনে আবদ্ধ হন।

এর আগে অবশ্য পরিবারের অমতে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন আশা, তবে সেই সংসার টেকেনি। বিচ্ছেদের পর সন্তানদের নিয়ে আবার পরিবারে ফিরে আসেন তিনি এবং নতুন করে গড়ে তোলেন নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণ মানে শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়—এটি একটি যুগের অবসান। তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও প্রিয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *