স্টাফ রিপোর্টার

বড়াইগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সংঘর্ষ, গুলি, জামায়াত,বিএনপি নেতাসহ আহত১২#সংবাদ শৈলী
নাটোরের বড়াইগ্রামে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান ও বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আসাব সরকার সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের ধানাইদহ এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনা কমান্ডার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত উপজেলার নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান (৬০)কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও নগর ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাব সরকার (৫৫)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ সেখ, হুমায়ুন কবির, সাইদুল ইসলাম সহ আহত অন্যান্য ১০ জন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সকলেই ধানাইদহ এলাকার বাসিন্দা।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারপিট করে বিএনপির কয়েকজন কর্মী। এরই জের ধরে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দা, কুড়াল, হাসুয়া, লাঠি, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থল সহ আশে-পাশের এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বি পরাজিত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর জেলা সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হাকিম জানান, এ ধরণের হামলা ও সহিংসতা কাম্য নয়। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে এসে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন পরবর্তী কোন সহিংসতা বা যে কোন ধরণের আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপ কেউ করতে চাইলে তা কঠোরভাবে আইনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহন করার জন্য তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব বলেন , ্একজন বিএনপি নেতাসহ ৪ জন পুলিশ হেফাজতে আছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ ঢাকায় অবস্থান করলেও তার নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুকে তার দলের নেতা-কর্মীদের যে কোন ধরণের সহিংসতা ও উস্কানি বা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, “গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের বিএনপি সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করছি কোনভাবে কোন সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। ভিন্নমতের কারো প্রতি সহিংস হামলা কোনভাবে গ্রহণ করা হবে না। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
