স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার লোকজনের প্রাণনাশের হুমকির কারণে থানায় মামলা করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাঁচ দিন পর শনিবার রাতে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠায়। একই রাতে এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনাটি উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘটেছে। শিশুটির মা নেই। বাবা ভবঘুরে অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে থাকেন। ফলে শিশুটি এলাকার বিভিন্ন বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই মঙ্গলবার একই এলাকার বাছিদ মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন নাস্তা খাওয়ানোর কথা বলে শিশুটিকে ফুসলিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আবুল হোসেন দ্রুত পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি ওঠে। তবে ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আবুল হোসেন প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা বা অভিযোগ করলে পরিবার ও এলাকাবাসীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের ওপর নজরদারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখা হয়। এ কারণে পাঁচ দিন পার হলেও কেউ থানায় গিয়ে মামলা করার সাহস পাননি। পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাতে এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *