সংবাদ শৈলী ডেস্ক
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করে ১১ কোটি টাকা আয় করেছেন একজন নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী। মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হাবীবুল্লাহ ও মো. আল আমিন। হাবীবুল্লাহ গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। আল আমিন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং)।
তাঁরা মাত্র ৩০ দিনে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেন। প্রতিটি তথ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হিসাবে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তাঁরা। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় করা মামলার তদন্তে তাঁদের গ্রেপ্তার
দেখানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।
তিনি বলেন, ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের অন্য সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে।
এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল আল আমিনের কাছে; যার মাধ্যমে সারা দেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন।
এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে চার-পাঁচ হাজার টাকা উৎকাচ নিতেন আল আমিন। অন্যদিকে মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে
বিক্রি করতেন।
মাত্র এক সপ্তাহে এক লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন তাঁরা—এ তথ্য জানিয়ে তিনি আরো বলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা হিসাবে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবন
যাপন করতেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

নির্বাচন কমিশনের ২ কর্মচারী গ্রেপ্তার
অজ্ঞাত অন্য সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
