স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা ও বাবার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছেলেকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- পূর্ব গুজরা এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্তা (৫৫)। আটক রোমিও দাশ গুপ্ত (৪২) নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রোমিও দাশগুপ্ত মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে সুস্থ করে তুলতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে তিনি আবারও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে রোমিও তার মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে যান। পরে বেলা প্রায় পৌনে ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরে হঠাৎ করেই ধারালো ছুরি নিয়ে মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। ছেলের আকস্মিক হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন কল্পনা দাশ।

স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে স্বপন দাশগুপ্তের ওপরও একইভাবে ছুরিকাঘাত করেন রোমিও। স্বজন ও প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে কল্পনা দাশকে ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় দেখতে পান। গুরুতর আহত স্বপন দাশগুপ্তকে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলাকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত কল্পনা দাশের ছোট জা তিথি দাশ বলেন, রোমিও দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। পরিবারের সবাই অনেক চেষ্টা করেছে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। একাধিকবার চিকিৎসাও করানো হয়েছে। কিন্তু সে নিজের মা-বাবার ওপর এমন হামলা চালাবে, তা কখনও কল্পনাও করিনি।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত রোমিও দাশগুপ্তকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। পরে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *