স্টাফ রিপোর্টার

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা মিজ মিজ্ নুরজাহান বেগম বলেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল।মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের আশা ছিল, একটা সুন্দর বৈষম্যহীন সমাজ পাবো। মানুষে মানুষে বেশি ভেদাভেদ থাকবে না। আমরা একেবারে নিরাপদে বসবাস করতে পারবো। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয় নাই।
কিন্তু দীর্ঘ দিনেও মানুষের আশা আকাংখার পরিবর্তন হয়নি। ২৪শে যে গণআন্দোলন হলো সেই আন্দোলনের ফসল হলো আজকের এই পরিবর্তন। সেই সময় আমাদের প্রায় ১৪ হাজার ছেলে-মেয়ে আহত হয়েছে। ৩২ জন ছেলে হাত অথবা পা হারিয়েছে। ২২ জনের চোখ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, অবাধ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভোট হবে। প্রশাসন সম্পুর্ন নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ও পুলিশের কাছে সিসি ক্যামেরা থাকবে। কেউ ভোট বাক্স দখল বা কোনো অনিয়ম করতে চাইলে তা ধরা পড়বে। পেশিশক্তির দিন শেষ, এবার উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোট হবে।
তিনি বলেন, আমারা এমন একটা দেশ চাই, যেখানে আমাদের ছেলে-মেয়েরা নিরাপদে স্কুল-কলেজে যেতে পারবে। তাদের মেধা অনুযায়ী চাকরি পাবে। কোনো রকমের দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি থাকবে না। অর্থাৎ আমাদের সমাজে এখন যা হচ্ছে, এগুলো হবে না। আমরা যদি ওইরকম একটা সমাজ চাই, ওইরকম দেশ চাই, এই গণভোটটা সেটার জন্য, দেশ পরিবর্তনের জন্য।হাঁ ভোট বিষয়ে এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, এটা একক ভাবে তাঁদের কাজ নয়। আপনারা যারা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক রয়েছেন এই দায়িত্ব আমি তাদের ওপর দিয়ে গেলাম।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় নাটোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটারদের সচেতন ও উদুদ্ধকরণে ভোটের গাড়ির কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার এখতিয়ার প্রসঙ্গে সংস্কারের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অতীতে দেখা গেছে, কোনো দুর্বৃত্ত বা ফ্যাসিস্টের বিচার ও সাজা হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের অনুমতি ছাড়া এমন ক্ষমা করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকা উচিত নয়। আমরা এমন দেশ চাই, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে এবং দুর্বৃত্তরা পার পাবে না।
নারীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো আশানুরূপ নয়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে নারীদের সংখ্যা খুবই কম। এই বৈষম্য দূর করে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আমাদের একমত হতে হবে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে উল্লেখ করে ভোটারদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, যিনি ভোট চাইতে আসবেন, তাকে জিজ্ঞেস করবেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে তার পরিকল্পনা কী। জনগণ বুঝে-শুনে তাদের রায় দেবেন।
পরে তিনি নাটোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট নিয়ে জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার আবদুল ওয়াহাবসহ জেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
