২৭ অক্টোবর ২০২৬ | রাত ৭:৫৮:৪৫ মিনিট
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম কমে আসা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের তৎপরতায় স্বর্ণের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে শুক্রবার স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। পাশাপাশি দাম কমার পর স্বর্ণ কেনার প্রবণতাও বেড়েছে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ বব হ্যাবারকর্ন বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে কম দামে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফেডের সুদের হারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগপর্যন্ত প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের আশপাশে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
গত সপ্তাহে তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছালেও সোমবার তা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তেলের বাজারে এই পতনের অন্যতম কারণ। তবে সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটলে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর পর এবার তা অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্বর্ণের দামের ওঠানামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফেডের কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে সুদের হার না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডের পছন্দের এই সূচকের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সুদের হারের গতিপথ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়ার আশা করছেন তারা।
এ ছাড়া ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরে রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্বনীতি, শুল্ক, ভূরাজনৈতিক ব্যয় ও নীতিগত অনিশ্চয়তাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা মূল্যায়ন করছেন বিশ্লেষকেরা। এসব বিষয় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার, ডলারের দর এবং স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *