১৪ অক্টোবর ২০২৬ | রাত ১১:৫৭:২০ মিনিট

ডেঙ্গু জ্বর থেকে সেরে ওঠার পর শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ জরুরি। এ সময় শরীরে দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য ও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং সহজপাচ্য খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান

শরীরের কোষের গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পুনরুদ্ধারে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, দই, ডাল ও ছানা রাখা যেতে পারে। এসব খাবার শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

এ সময় অনেকের ক্ষুধা কম থাকতে পারে। তাই একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া ভালো। এতে খাবার খাওয়ার চাপ কমবে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ সহজ হবে।

সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার সময় জাউ, নরম ভাত, খিচুড়ি, সবজির স্যুপ ও পাতলা ঝোলের মতো সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। মুরগির মাংস ও সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ থেকে শরীর তরল, প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পায়।

তবে শুধু তরল খাবারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। শারীরিক অবস্থা ও ক্ষুধা অনুযায়ী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি পাবে।

খাদ্যতালিকায় রাখুন ফলমূল ও শাকসবজি

ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া জরুরি। কমলা, মাল্টা, পাকা পেঁপে, কলা, পেয়ারা ও অন্যান্য তাজা ফলে ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ পাওয়া যায়।

পাশাপাশি পালংশাক, ব্রকলি, গাজর, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। এসব খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে সহায়তা করে।

এ সময় বেদানাও খাওয়া যেতে পারে। তবে বেদানা খেলে ডেঙ্গুতে রক্তের প্লেটলেট দ্রুত বাড়ে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই কোনো একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়াই ভালো।

পর্যাপ্ত তরল পান করুন

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার সময় পানিশূন্যতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য নিয়মিত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, পাতলা স্যুপ ও চিনি ছাড়া ফলের রস পান করা যেতে পারে।

তবে ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তরল ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

গোটা ফল খাওয়া সাধারণত ফলের রস পান করার চেয়ে ভালো। কারণ, গোটা ফলে খাদ্যআঁশ বেশি থাকে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলা উচিত।

কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?

ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার সময় অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই এসব খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি হলে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত চা-কফি ও অ্যালকোহল থেকেও বিরত থাকা ভালো।

তবে সবার জন্য সব খাবার নিষিদ্ধ নয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, হজমের সক্ষমতা ও খাবার সহ্য করার ক্ষমতা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

সুস্থ হতে বিশ্রাম ও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পরও তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। জ্বর কমে গেলেই সব ঝুঁকি কেটে গেছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়।

দ্রুত ও নিরাপদে সুস্থ হয়ে উঠতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, কোনো বিশেষ খাবার একাই ডেঙ্গু সারাতে পারে না। সঠিক পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *