০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দুপুর ২:২৮:৫৮ মিনিট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিবির নেতার ওপর ছাত্রদল কর্মীর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হওয়া ক্যাম্পাস এখন অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সম্মিলিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা এ বার্তা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর মোঃ শাহিনুজ্জামান, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, ইবি মিরপুর জোনের সার্কেল এসপি মাহমুদ সহ আরও অনেকে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদ রুমি মিঠুন বলেন, ‘ইবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস। এখানে বহিরাগতদের কোন স্থান নেই। বহিরাগতরা যদি ক্যাম্পাসে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে তবে ছাত্রদল, শিবির ও অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো মিলে প্রতিহত করা হবে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা তা মেনে নেব।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন,
‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টির সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমরা প্রশাসনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। জামায়াত বা বিএনপি—যে দলেরই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে বা বাইরে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালে আমরা কাউকে ছাড় দেব না, সোজা পুলিশের কাছে সোপর্দ করবো।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিবির ও ছাত্রদল উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা সমন্বিতভাবে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে তারা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

এ বিষয়ে ইবি মিরপুর জোনের সার্কেল এসপি মাহমুদ বলেন, ‘যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আমরা যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর। ক্যাম্পাসে কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।’

উল্লেখ্য, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভির ফুটেজ দেখে জানা যায়, হলের নিচতলায় হাঁটার সময় শিবিরের হল সেক্রেটারি জুহায়েরকে ছাত্রদল কর্মী আলিনুর চড় মারেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা হলে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে জিয়াউর রহমান হলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরে কোনো সমাধান না হলে প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি গাড়িতে তুললে শিবিরের কর্মীরা গাড়িটি ঘিরে ধরেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড়ের মধ্যে থাকা কয়েকজন ও পেছন থেকে আসা কিছু ব্যক্তি গাড়ির জানালায় ঢিল নিক্ষেপ করেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক এলাকায় ছাত্রদলের সাথে বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউন দিতে দেখা যায়। এসময় ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী আহত হন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *