০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | রাত ৯:৫৮:৪৭ মিনিট

আকস্মিক বন্যার ১০ ‍দিন পরও কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ভেবে নিয়েছিলেন তাদের বাড়ির প্রবীণ সদস্যটি হয়ত আর বেঁচে নেই। তাই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরিবার। তবে শেষকৃত্যের ঘোষণা দেওয়ার পর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে উদ্ধার হয়েছেন নেপালি নারী চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা। আকস্মিক বন্যার এতাদিন পর তাকে আবারও ফিরে পেয়ে চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে গেছে তার পরিবারের লোকদের। খবর রয়টার্সের 

পাহাড়ি হড়কা বানের তোড়ে ৪ তলা বাড়িতে আটকা পড়ে ভেসে যান বেত্রাভতী গ্রামের শ্রেষ্ঠা। তবে অলৌকিকভাবে বেচেঁ যাওয়ার পর পানি আর কাদার মধ্যে এক সরু জায়গায় আটকে পড়েন তিনি। দেশটির পুলিশ কর্মকর্তা মাহেন্দ্র দারনাল জানান, ‘বানের তোড়ে বাড়িটি কিছুদূর ভেসে গিয়ে চোরাবালিতে আটকে যায়। আমাদের উদ্ধারকারী দল সেই ধ্বংসযজ্ঞের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া সময় ‘আমাকে বাঁচাও; বলে আওয়াজ শুনতে পান। পরে ৪৫ মিনিট ধরে উদ্ধার কার্য ক্রম চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে সামরিক হাসপাতালে প্রেরণ করি।’

তিনি আরও জানান, ‘ আমি ওনার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেই জানতে পারি, সেই নারী মারা গেছেন ভেবে তারা ইতোমধ্যে ১১ দিনব্যাপী শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন।’

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত বেত্রাবতী এলাকায় নিখোঁজ থাকা শত শত মানুষের একজন শ্রেষ্ঠা। পুরো এলাকা সিমেন্টের মতো জমাট বাঁধা সাদা আস্তরণে ঢেকে গেছে। সেখানে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও বহু লাশ উদ্ধার করে চলেছে।

উপত্যকাজুড়ে ধেয়ে আসা ঢলের কারণে শহরের বাজার এবং চারতলা পর্যন্ত বেশ কিছু আবাসিক ভবন আবর্জনার নিচে প্রায় পুরোপুরি চাপা পড়েছে। এই বিপর্যয়ে পুরো নেপালজুড়ে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *