
প্রায় দুই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের এক সহপাঠীকে খুঁজতে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটিয়েছেন আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা। আবেগঘন সেই পোস্টার সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘স্বপ্না, তুমি যদি কোথাও থেকে এই পোস্টারটি দেখ, একবার শুধু যোগাযোগ কর। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে একবার দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকব।’
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে মোবাইলে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেন মাসুদ রানা। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও টান থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্বপ্নার কোনো সন্ধান পাননি।
মাসুদের ভাষ্য, স্বপ্না এখনো বিয়ে করেননি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার মা মারা গেছেন এবং বর্তমানে বাবাকে নিয়ে আছেন। গাজীপুরের মাওনা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে তিনি তথ্য পেয়েছেন।
মাসুদ জানান, ২০০৭ সালে জিরাবো স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বপ্না নামে তার এক সহপাঠী ছিল। মেয়েটির গালে একটি তিল ছিল। ঈদের ছুটির পর হঠাৎ করেই সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। পরে তিনি জানতে পারেন, পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে স্বপ্না স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করে।
তিনি জানান, এরপর বিভিন্ন সময়ে জিরাবো, পুকুরপাড় ও আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় স্বপ্নার চাকরির খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে খোঁজ করেছেন। এমনকি ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় তার কাজ করার তথ্য পেলেও কখনো সরাসরি দেখা হয়নি।
পোস্টারে নিজের বর্তমান অবস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন মাসুদ। সেখানে তিনি লিখেছেন, ২০১৮ সাল থেকে একটি পোশাক কারখানায় টেকনিক্যাল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি চাকরির কারণে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় চলে যাওয়ায় আগের মতো জিরাবো এলাকায় এসে খোঁজ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পোস্টার লাগিয়ে তিনি স্বপ্নাকে খুঁজে পাওয়ার ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পোস্টারের নিচে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বরও দিয়েছেন।
মাসুদ বলেন, ছোটবেলায় আমরা একসঙ্গে পড়তাম। আমি তাকে পছন্দ করতাম, কিন্তু কখনো সেটা বলা হয়নি। তার বর্তমান ছবি বা ফোন নম্বর আমার কাছে নেই। বহু বছর ধরে বিভিন্নভাবে খোঁজ করেছি। এখন চাকরির কারণে অন্য এলাকায় চলে এসেছি। তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে পোস্টার ছাপিয়েছি। শুধু একবার জানতে চাই, সে কেমন আছে। জীবনে অন্তত একবার তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।
তিনি আরও জানান, পোস্টার লাগানোর পর অনেকেই ফোন করে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে স্বপ্নার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেননি।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। জিরাবো এলাকার বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান বলেন, সিনেমা বা গানের প্রচারে শহরজুড়ে পোস্টার লাগানোর কথা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে একজন পুরোনো সহপাঠীকে খুঁজতে এভাবে পোস্টার লাগাতে দেখিনি। বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। আশা করি, একদিন তাদের দেখা হবে।
অন্যদিকে স্থানীয় একটি কারখানার কর্মী শফিকুল ইসলাম ও তার সহকর্মীরা বলেন, রাজনৈতিক পোস্টার প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু একজন পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে পেতে এমন পোস্টার আগে কখনো চোখে পড়েনি। তাদের মতে, বিষয়টি আবেগঘন ও মানবিক হলেও এত বছর পর স্বপ্নার ব্যক্তিগত জীবন ভিন্ন পথে এগিয়ে যেতে পারে। বর্ণনা অনুযায়ী তার বয়স এখন প্রায় ২৯ বছর। তিনি হয়তো বিবাহিত এবং সংসারও করছেন। তাই বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
