রমিসা হত্যাকাণ্ড, সোহেলের পরিবার শোকাহত,বিচার চান স্বপ্নার বাবা #সংবাদ শৈলী
স্টাফ রিপোর্টার
রমিসা হত্যাকাণ্ড, সোহেলের পরিবার শোকাহত,বিচার চান স্বপ্নার বাবা #সংবাদ শৈলী
রবিবার (৭ই জুন) দুপুরে রমিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর হত্যাকারি সোহেলের নিজ এলাকায় নাটোরের সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে ছেলে হত্যাকারী হলেও তার ফাঁসির রায় মেনে নেওয়া বাবা-মায়ের জন্য খুবই কষ্টকর। মা অনর্গল খেতে চলছে। বাবা কথা বলার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। তবে তার প্রতিবেশী এবং নাটোরের সুধি সমাজ রমেসা হত্যা মামলার রায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় শরীরের স্ত্রী সপ্নার পরিবারে। তারা এই মামলার রায় মেনে নিয়েছেন জানিয়ে বলেন পরিবারে পক্ষ থেকে তারা আপিল করবেন না।
এদিন দুপুরে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় টিনের ঘরের বারান্দায় বসে রয়েছেন সোহেলের বাবা ও মা। মা কে দেয় চলেছেন। অপরদিকে বাবা শোকাহত অবস্থায় বসে রয়েছে ন। তার কথা বলার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলছেন। পরিবারে পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রায়ের কথা তারা জানতেন না। স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়ি এসে রায় ঘোষণার কথা জানান।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।
সোহেলের পিতা জাকির হোসেন বলেন, অপরাধী হলেও সোহেল ব্যাটা। আমি গরিব মানুষ। অস্ত্র সজল কণ্ঠ তিনি বলেন আমার সামর্থ্য নাই আপিল করার মত। সরকারের পক্ষ থেকে যদি বাতিলের জন্য আইনজীবী দেন তবে তারা আপিল করবেন। স্বামীর পাশে বসে কেদেই চলেছেন জাকির হোসেনের স্ত্রী । তিনি বলেন হাজার হলেও সোহেল আমার ব্যাটা। তার এই ফাঁসির রায় মাইনা লিতে আমার বুক ফাট্যা যাচ্ছে। কিন্তুক আমার ছেলে য অপরাধী। তাই আমরা কিছুই করার ক্ষ্যামতা নাই।
সোহেলের প্রতিবেশী সেন্টু ও মকুল বলেন তারাই মামলার রায় খুশি। দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করার দাবি জানান তারা। সেন্টু বলেন একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এ ধরনের অপরাধ মেনে নেওয়ার মতো নয়। যে নৃশংস ভাবে রোমের সাথে হত্যা করা হয়েছে তার বিচার হওয়া খুবই প্রয়োজন।
তবে সিংড়া পৌর শহরের ভালো বাসুয়া মহল্লায়। তবে সেখানে তার বাড়ি ঘর নেই। এলাকাবাসী জানান কর্তৃক সূত্রে যেটুকু জায়গা পেয়েছিলেন তা মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে বাবা জিয়াদুল ইসলাম একটি ক্লিনিকে চাকরি করে এবং তিনি সেখানেই থাকেন। অপরদিকে স্বপ্নের মা থাকেন রাজশাহীতে তার মেয়ের বাড়িতে। ভালোবাসা মহলায় ক্লিনিকে গিয়ে কথা হয় সপ্নার বাবা দিয়াদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, এ ঘটনা মেনে নেয়ার মত না। আমি মেয়েকে আগেই ত্যজ্য করেছিলাম। মেয়ের এই রায়ে আমি খুশি। বিচার বাস্তবায়ন হোক। কোনো আপিল পরিবার থেকে করবো না।
প্রতিবেশী আবুবক্কর ও আবু সাইদ বলেন, স্বপ্নার কপালে শনি পড়েছে। সোহেল তার তৃতীয় স্বামী। বাবা মার অমতে তাকে বিয়ে করার পর তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক আর ছিলো না। সঙ্গ দোষে লোহা ভাষে তেমনি স্বপ্না এমন ঘটনায় জড়িত হয়েছে। সোহেলের মত খারাপ ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ায় তার কাল হয়েছে। আমরা তাদের দুজনের শাস্তি চাই।
এলাকাবাসী জানান,ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সোহেলের রয়েছে কলঙ্কিত অতীত। এলাকাতে পরকীয়া, চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিলেন তিনি। চার বছর আগে স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় আসে সোহেল।
উল্লেখ্য, ১৯ মে পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন।