স্টাফ রিপোর্টার

নাটোরের সিংড়ায়. নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর পল্লী চিকিৎসক বিনোদ কুমারকে উ.দ্ধা.র করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ধুলিয়াডাঙ্গা বিলের একটি পুকুরপাড় থেকে তাকে হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় উ.দ্ধা.র করে স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ ইউনিয়নের শালিখা মন্ডলপাড়া গ্রামের বিনোদ কুমার পার্শ্ববর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজারে নিজস্ব ফার্মেসিতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাত সোয়া নয়টার দিকে বিনোদ কুমার তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে স্ত্রীকে ফোন করে অত্যন্ত আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “ছেলে-মেয়েদের দেখে রাখিও, আমার ইচ্ছা থাকলেও আমি বাড়িতে যাইতে পারিতেছি না।” এই রহস্যম.য় বার্তার পরপরই তার ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই রাতেই পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে শালিখা শ্মশানের পশ্চিম পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে তার ব্যবহৃত ওষুধের ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজের চারদিন বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ধুলিয়াডাঙ্গা বিলের পাশে তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চারদিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে এসে বিনোদ কুমার কেবল এটুকুই বলতে পেরেছেন।
অপহরণ.কারী বা ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বিমর্ষ ও আতঙ্কিত কণ্ঠে বারবার বলছেন, “আমার কিছু মনে নেই।” ধারণা করা হচ্ছে, প্রচণ্ড মানসিক ট্রমা অথবা অপহরণকারীদের ভয়.ভীতির কারণে তিনি মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকা এবং প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার কারণে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন, তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, “গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জিডি করার পর থেকেই আমরা তাকে উদ্ধারে তৎপর ছিলাম। তাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে অপহরণ.কারীদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি এখনো স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিক এজাহার দায়ের করলে আমরা নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব।”

