
স্টাফ রিপোর্টার
নাটোরে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। জীবন যাত্রা অচল হয়ে পড়ার পাশাশি বাড়ছে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা।গতকাল নাটোরের তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ফলে প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে বয়স্ক ও শিশু রোগীদের ভীড়। আউটডোরে চিকিৎসা দিতে হিমশীম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।হাসপাতালে আগত রোগীরা পাছেন না প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা।
বৃহস্পতিবার নাটোর হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায় শীতে জুবু থুবু নারী ও পুরুষ ও শিশুদের লাইনে র্দীঘ ভীড়। রোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচন্ড শীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ঠান্ডাজনিত জ্বর,কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী। শীতের কারণে সকাল ৮টার দিকে রোগীর সংখ্যা কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দীর্ঘ লাইন। কয়েকজন আগত মহিলা ও পুরুষ জানালেন , তারা সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা অনেকে চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। । হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, বেশীরভাগ শিশু। সাইদা খাতুন নামে একজন শিশুর সাথে আসা মহিলা জানান, তার ভাতিজির চিকিৎসা চলছে। হিন্তু হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুমের এমন অবস্থা দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া যায়না। তাছাড়া পানি নেই। টয়লেট গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। ররফিকুল ইসলাম নামে একজন জানান কয়েক দিন ধরে কাশি হচ্ছে। রাতে ঘুমাইতে পারিনা। কাশ ও শ্বাস কষ্ট। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ।তবে তার চিকিৎসার জন্য কিছু ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
বহি র্বিভাগের সামনে কথা হয় নাটোর শংকরভাগ থেকে বৃদ্ধ রহিম আলীর সঙ্গে। কাশ সর্দি ও জ্বর নিয়ে তিনি এসেছেন। স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়ে কোন উপকার না পেয়ে হাসপাতালে এসেছেন ডাক্তার দেখানোর জন্য ।কিন্তু ব্যবস্থা পত্রে চিকিৎসক যে ঔষধ দিয়েছেন তার মধ্যে কিছু ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হবে। নাটোর হাসাপাতালে পুরুুষ ওয়ার্ডে ভর্তি একজন যুবক জানান, তিনি ৭দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তারদেও চিকিৎসা ভাল। কিন্তু বাহির থেকে কিছু ঔষধ কিনতে হয়। তবে প্রধান সমস্যা টয়লেট ও বাথরুম। দুর্গন্ধে থাকা যায়না। নাটোর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স রেনু ক্রিষ্টিনা বলেন, তার পুরুষ ওয়ার্ডে শীত জনিত রোগ যেমন কাশি, শ্বাসকষ্ট,জ্বর নিউমোনিয়াসহ শীত জনিত রোগীর সংখ্যায় বেশী । নাটোর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মজিাবুবুর রহমান জানান,২৫০ শয্যার হাসপাতালে চার শদাধিক শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এরমধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডেৃ রয়েছেন ৪৫জন। অন্যদিকে আউটডোরে চিকিৎসা নি”েচ্ছন প্রতিদিন আট’শ থেকে ১২.শ রোগী। এই বিপুল পরিমান রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশীম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা।
নাটোরের সিভিল সার্জন ও নাটোর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মুক্তাদির আরেফিন জানান, শীতের কারণে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, এজমার রোগী বেড়ে গেছে। শীতজনিত রোগীদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুদের সংখ্যা উল্লেখ যোগ্য। তিনি বলেন, ১০০ শয্যার চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মচারী দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে তেমন কোন ওষধ সমস্যা নেই।
