স্টাফ রিপোর্টার

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষিপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের তারা মিয়ার,উদ্ভাবিত প্রযুক্তি গভীর পাইপে পড়ে যাওয়া শিশু উদ্ধারে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। কৃষক তারা মিয়া নামের ওই উদ্ভাবক সীমিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব চিন্তাধারা থেকে তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ধরনের লোহার খাঁচা, যা দিয়ে দ্রুত সময়ে শিশু উদ্ধার করা সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে।উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি ব্যাসের এবং ২০০ থেকে ৩০০ ফুট গভীর পাইপে পড়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। খাঁচাটি পাইপের ভেতরে নামানো হলে নিচের অংশে থাকা একটি বিশেষ লক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটির প্রস্থ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সুতার সাহায্যে টান দিলে খাঁচাটি সংকুচিত হয়ে শিশুটির পা আটকে ফেলে এবং ধীরে ধীরে সেটিকে উপরে টেনে তোলা সম্ভব হয়। এতে শিশুটি খাঁচার সঙ্গে নিরাপদভাবে ওপরে উঠে আসতে পারে।
উদ্ভাবক তারা মিয়া জানান, মানুষের হাত তালুবদ্ধ করার ধারণা থেকেই তার মাথায় এই প্রযুক্তির চিন্তা আসে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই পদ্ধতি বাস্তবে প্রয়োগ করা গেলে অনেক দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রযুক্তিটি আরও আধুনিকায়ন করে এর সঙ্গে ক্যামেরা ও আলো সংযোজন করা হলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। এতে পাইপের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ও নিরাপদভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তারা মিয়া আরও জানান, প্রায় ৩০০ ফুট গভীরতার জন্য উপযোগী একটি আধুনিক খাঁচা তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।
উদ্ভাবনটি বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

