স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার
নাটোরে জেন্ডার সংবেদনশীল শব্দ ব্যবহার এবং ভাষায় লিঙ্গীয় বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে নাটোরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক ব্যতিক্রমী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের কানাইখালীস্থ একটি রেস্তোরায় নারী অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘নারীপক্ষ’ এই সভার আয়োজন করে।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নারীপক্ষ নারীর অবস্থা ও অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি ইহজাগতিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, বৈষম্যহীনতা ও মুক্ত চিন্তা-চেতনার মূলনীতিতে বিশ্বাসী। তাদের স্বপ্ন হলো বাংলাদেশের নারী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অধিকার সম্পন্ন নাগরিক এবং মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গণ্য হবে।
সভায় ঢাকা থেকে আগত নারীপক্ষের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখান যে, বাংলাসহ অধিকাংশ ভাষায় লিঙ্গভিত্তিক শব্দ, প্রবাদ বা বাগধারা নারীর অবস্থানকে অবমূল্যায়ন করে। বক্তারা বলেন, ভাষায় লিঙ্গীয় বৈষম্য হলো এমন শব্দ বা বাক্যাংশ ব্যবহার, যা নারী-পুরুষের মধ্যে অসমতা, সামাজিক স্টেরিওটাইপ এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে ফুটিয়ে তোলে। এটি আমাদের চিন্তাভাবনা ও আচরণকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে এবং পুরুষের আধিপত্য ও কর্মক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
তিন ঘণ্টাব্যাপী এই প্রাণবন্ত আলোচনায় বেশ কিছু প্রচলিত শব্দের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, সামাজিক ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের স্বাতন্ত্র্য বিভাজন দূর করে একটি লিঙ্গ সমতার ভাষা তৈরি করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশকে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড জেন্ডার’ নামক ভাষাবিজ্ঞানের একটি উপশাখার উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে।
নারীপক্ষের সমন্বয়কারী কামরুন নাহারের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক গীতা দাস, সমন্বয়কারী কামরুন নাহার, সদস্য ফেরদৌসী আক্তার, প্রকল্প কর্মকর্তা প্রিয়াংকা কুন্ডু।
মতবিনিময় সভায় নাটোরের শীর্ষ ৩০ জন সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাটোর ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, নাটোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শহিদুল হক, বাংলা টিভির মেহেদী হাসান বাবু, এটিএন বাংলার জুলফিকার হায়দার জোসেফ, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার হালিম খান এবং দৈনিক প্রভাত ও সাপ্তাহিক বারনই প্রতিনিধি খন্দকার মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা পরিশেষে বলেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করার জন্য যে শব্দগুলো তৈরি করা হয়েছে, তার সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বৈষম্য দূর করতে সাংবাদিকদের কলমকে আরও শক্তিশালী ও সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।

