স্টাফ রিপোর্টার
নাটোর শহরের হরিশপুর বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে জোর করে অস্ত্রের মুখে এক যুবককে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রাইভেট কার সহ দুজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় অপহত কে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করে। আটকৃতরা হলেন গুরদাসপুর উপজেলার সোনা বাজু ঝাঁপাড়া গ্রামের দুলুমিয়ার ছেলে রাব্বানী ২৪ এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়ারী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে অদুদ হোসেন শিহাব ১৮। অপরদিকে অপহৃত যুবক ইমরান হোসেন ২২ একই উপজেলার শোনাবাজু গ্রামের ইয়াদুল প্রামাণিকের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং অপহৃত এবং অপহরণকারদের সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলার ঝাউপারা গ্রামের ইয়াদুল প্রামাণিকের ছেলে ইমরান ২২ এক বন্ধুর ফোন পেয়ে বড় হরিশপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় আসে। এ সময় একটি প্রাইভেট কার নিয়ে রাব্বানী ,ওয়াদুদ,সাগর শফি জোর করে অস্ত্রের মুখে ইমরানকে প্রাইভেট কারে তুলে নেয়। প্রাইভেটকারটি নাটোর শহরের কানাইখালী পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে ইমরান চিৎকার করে ওঠে। ইমরানের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ব্যারিকেড দিয়ে প্রাইভেট কারটিকে থামায়। এ সময় অপহত ইমরান সহ প্রাইভেট কারে থাক ৫ জনকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান জানান, তাকে অস্ত্রের মুখে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রাণের ভয়ে তিনি চিৎকার করেন।

অপরদিকে অপহরণের সাথে জড়িত গুরুসপুর উপজেলার শোনাবাজু ঝাঁপড়া এলাকার রাব্বানী জানান , রাব্বানী ,ওয়াদুদ সহ তিন বন্ধু মিলে দুটি ইউটিউব ও দুটি ফেসবুক চালান। তাদের কনটেন্ট আগে ফেসবুকে আপলোড করা হয় । পরে ইউটিউবে আপলোড করেন। কিন্তু ইমরান ফেসবুকে আপলোড করার পরপরই কনটেন্টটি ডাউনলোড করে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে। পরে যখন তারা তাদের তৈরিকৃত কনটেন্টটি ইউটিউবে আপলোড করেন তখন ইমরান স্ট্রাইক দেয় এভাবে তাদের দুটি ইউটিউবে চ্যানেল নষ্ট করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার জন্য ইমরানকে নিয়ে তারা একজনের সঙ্গে বসতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে চিৎকার করায় বিপত্তি ঘটে। সব শুনে স্থানীয় লোকজন পুলিশের সংবাদ দিলে পুলিশ এসে অপহত ইমরানসহ রাব্বানী ও ওয়াদুদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।অপরদিকে জিজ্ঞাসাবাদের ফাঁকে সবার চোখে ধুলো দিয়ে অপহরণের সাথে জড়িত শফি ও সাগর পালিয়ে যায়। পরে ইমরানের কথামতো পুলিশ প্রাইভেটকার তল্লাশি করে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। এ বিষয়ে নাটোর থানার ওসি অপারেশ ইব্রাহীম খলিল আটককৃত দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পালিয়ে যাওয়া দুইজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারুল আলম বলেন এটি দেখতে হুবহু অরজিনাল পিস্তলের মত মনে হলেও আসলে খেলনা পিস্তল মনে হচ্ছে। তারপরেও আমরা এক্সপার্ ওপেনিয়ন নিয়ে নিশ্চিত হব এটি খেলনা না অরজিনাল পিস্তল।
