সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে চলছে আহাজারী

স্টাফ রিপোর্টার
নাটোরে নিহত ৫ জনের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামারচর গোজা ব্রীজের কাছে ট্রাক-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দিন মজুরী কওে এই ৫জনই পরিবারের ভরণ পোষণের কাজ চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদেও মৃত্যুতে ৫টি পরিবারে শুধু শোকের ছায়া নয় কিভাবে তারা চলবেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা ইউপি চেয়ারম্যান নয়েজ উদ্দীন জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।গত ১০-১২ দিন আগে নিহতরা অন্যদের সঙ্গে পাবনায় পাটের জমিতে কাজ করতে যায়। তাদের মধ্যে ছোটপাকা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মকুল হোসেন (৩৫), এবং আবুল হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (৩৪) মারা যান বাড়ি ফেরার পথে। আর আহত হন একই গ্রামের লাবুর ছেলে মঞ্জু। তাকে রামেকে ভর্তি করা হয়েছে।তিনি জানান, নিহত মকুলের ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং ৩ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। নিহত মনিরের ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে ছাড়াও ৮ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ছোট ছোট ওই সন্তানদের নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছে নিহতদের পরিবার। অপরদিকে, আহত মঞ্জুর ৪ ও ৬ বছর বয়সী দুটি ছেলে আছে। তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী দুর্ঘটনার খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে চলছে আহাজারী#সংবাদ শৈলী

জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী জানান,ওই দুর্ঘটনায় বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫) এবং ইজাল হকের ছেলে আব্দুল হালিম নিহত হন। একই গ্রামের আনসারের ছেলে আলমগীর আহত হয়েছেন। তাকে রামেকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই শ্রমিক। তারা পাবনায় পাটশ্রমিক হিসেবে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
জামনগর ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী জানান,তিনি মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। নিহত মকবুলের ১১ বছর বয়সী মেয়ে ছাড়াও ৮ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। নিহত আব্দুল হালিমের ৮ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৫-৬ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। অপরদিকে আহত আলমগীরের ১৮ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে।তাদেও তেমন কোন জমি জমা নেই। দিন মজুরী করেই চলতো তাদেও সংসার।
অপরদিকে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান,নিহত জুমাইগর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হায়দার আলী (৪০) একজন লিচু ব্যবসায়ী। দুই-তিন দিন আগে তিনি লিচু বিক্রি করতে দিনাজপুর যান। বাড়ি ফেরার পথে তিনি এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার চার মেয়ে। সবচেয়ে বড় মেয়ের বয়স ১৬ বছর। দিন মজুরী করেই হায়ধার আলী তার পিরবারের খরচ চালাতেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় রাত ২টার দিকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই চার জন নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোরের দিকে তাদের মধ্যে হাটিকুমরুল সাখাওয়াত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ব্যক্তি মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.