নৌকার কারিগর মুন্টু সন্ন্যাসী 

স্টাফ রিপোর্টারঃ নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম ঝুপদুয়ার। সবুজ শ্যামল প্রকৃতির মাঝে সরু চিকন গ্রামটিতে মোট ৪০ ঘর মানুষের বসবাস। যেখানে ৩৮ ঘর হিন্দু ও ২ ঘর মুসলমান। বর্ষাকালে নৌকা বানানোর পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এ গ্রামের লোকজনের তেমন কোন জমিজমা নেই বলে কায়িক পরিশ্রম করে সংসার চালাতে হয় এদের। বিশেষ করে নৌকার কারিগর  মুন্ট সন্ন্যাসী নৌকা তৈরি করেই সংসার চালায় বারমাস। বর্ষা শুরুর আগ থেকেই কাঠ লোহা টিন আর গোবর দিয়ে তৈরি করতে থাকে ছোট বড় ও মাঝারি মাপের ফিনিস নৌকা। এবছর বর্ষা এখনও আসেনি বলে থেমে নেই তার নৌকা বানানোর কাজ। মাছ ধরা ও মানুষ পারাপারের কাজে ব্যাবহৃত হয় মুন্টু সন্ন্যাসীর নৌকা।
ঝুপদুয়ার গ্রামের রাম দয়ালের ছেলে মুন্টু সন্ন্যাসী, যে কিনা নৌকা বানিয়ে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করে। মুন্টু সন্ন্যাসীর নৌকা বানানোর কাজে সহায়তা করে সংসার চলে একই গ্রামের আরও ছয় জনার। গত বছরের চাইতে নৌকা বানানোর সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবছর নৌকার খরচ একটু বেশী হলেও নৌকার চাহিদা আগের মত না থাকায় সংসার চালাতে অনেকটা হিমসিম খেতে হয় নৌকার এসব কারিগরদের। ৫২ বছর বয়সী মুন্টু সন্ন্যাসী প্রায় ৩৫ বছর ধরে বাপদাদার এই পেশার সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। অভাব-অনটন সবকিছুর মাঝেও নৌকা বানানটোই তার প্রধান পেশা।নেষাও বলা যেতে পারে।  নৌকা বানিয়ে বিক্রি করে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী,মা,  দুই ছেলে ও এক মেয়ে কে নিয়ে ছয় জনের সংসার তার।
মুন্টু সন্নাসী বলেন, শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়ে গেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। যার ফলে নৌকা বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট পোহাতে হয় তাকে। মুন্টু সন্ন্যাসী আরও বলেন, দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের নৌকা বানিয়ে বিক্রি করেন তিনি।
মুন্টু সন্নাসীর নৌকার সুনাম আশপাশে চারিদিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.