ঘর সংসার করার পরেও স্ত্রীর মর্যাদা পায়নি সাথী

0
ঘর সংসার করার পরেও স্ত্রীর মর্যাদা পায়নি সাথী#সংবাদ শৈলী

স্টাফ রিপোর্টার
নাটোরের গুরুদাসপুরে দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ে সাথী খাতুনকে ভালোবেসে বিয়ে করে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী নাঈম ও তার বাবা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রাম এলাকায়। এ ঘটনায় নাটোরের গুরুদাসপুর আমলী আদালতে বাদী হয়ে মামলা করেছেন সাথীর বাবা বাটুল প্রামানিক। এদিকে ছেলে ও মেয়ে দুজনেরই বয়স ২১ ও ১৮ এর কম। ছেলের বাবা প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বয়স কম হওয়ার সুযোগে ভ্যানচালকের মেয়েকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিচ্ছেন না। সাথী ও নাঈমের প্রেম, বিয়ে ও পরবর্তীতে তাদের দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকার অধিকাংশ মানুষ জানান, তাদের প্রেম এবং বিয়ের ঘটনা সত্য। ছেলের বাবা মেনে না নেওয়ায় স্ত্রী সাথীকে নিয়ে নাঈম আত্বীয়ের বাড়িতে ঘর সংসারও করেছে। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ধর্ম মতে তাদের বিয়ে হয়েছে। বয়স কম থাকায় কাজী কাবিননামা না দেওয়ায় মেয়েকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন সাথীর বাবা।
সাথীর বাবা-মা সাংবাদিকদের সাথে এবিষয়ে কথা বলতে চাননি। শুধু বলেছেন আইনে যা হয় তাই হবে। তবে তারা আশা করেন ন্যায় বিচার পাবেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাথী ও নাঈমের বিয়ে সত্য এবং তারা সংসারও করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন ও শাহাদত হোসেন বলেন, বিয়ের পর সাথীকে নাঈমের নানার বাড়ি এবং পরে খালার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শশুর শহিদুল ও তার স্ত্রী হেনা বেগম নানানভাবে নির্যাতন করেছেন। এলাকাবাসী সংসারটি জোড়া লাগানোর চেষ্টা করলেও ছেলের বাবা তা মানেননি।
প্রতিবেশি ইছামদ্দিনসহ স্থানীয়রা বলেন, সাথীকে জোড় করে বিষপান করিয়ে হত্যা করার চেষ্টাও করেছেন শহিদুলের পরিবার।
নাঈমকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নাঈমের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাকে না জানিয়ে চুরি করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও এটা বাল্যবিয়ে। তাই এ বিয়ে আমি মানিনা।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মতিন বলেন, এব্যাপারে গুরুদাসপুর থানায় কোনো অভিযোগ নেই। তবে আদালতে মামলা হলেও এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা পাইনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে